রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোর পাশে সাধারণত চোখে পড়ে যানজট, ধুলাবালি আর মানুষের কর্মব্যস্ততা। তবে তেজগাঁওয়ের পেপসি গলিতে গেলে দেখা মিলবে ভিন্ন এক দৃশ্যের। সড়ক বিভাজকে সামান্য জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে সবজি ও ঔষধি গাছের বাগান। লালশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, কচুশাক থেকে শুরু করে মরিচ, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শসা, ঢ্যাঁড়স, শিম, করলা, বেগুন, ফুলকপি, আখ ও পেঁপে কী নেই সেখানে! পাশাপাশি রয়েছে তুলসী, অ্যালোভেরা, পাথরকুচি, কেশরাজ, হলুদ ও নিমসহ বিভিন্ন ঔষধি গাছ।
এই সবুজের পেছনে রয়েছেন তিনজন মানুষ। তারা হলেন রিকশাচালক কামাল হোসেন, চা বিক্রেতা তোফায়েল হোসেন ও একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি সুপারভাইজার প্রশান্ত কুমার রায়। পেশা আলাদা হলেও তাদের মধ্যে মিল একটাই বৃক্ষপ্রেম। নিজেদের অবসর সময় কাজে লাগিয়ে তারা শুধু একটি সবজিবাগানই গড়ে তোলেননি, বরং ব্যস্ত নগরীর মাঝেও সবুজের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তেজগাঁওয়ের পেপসি গলিতে বার্জার পেইন্টের কার্যালয়ে সিকিউরিটি সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রশান্ত কুমার রায়। কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে সড়ক বিভাজকে লাগানো গাছগুলোর পরিচর্যা করেন তিনি।
প্রশান্ত কুমায় রায় জানান, কয়েক মাস আগে সড়ক বিভাজকটি নির্মাণ করা হয়। এরপর বিভাজকের ফাঁকা জায়গাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি। পরে সড়কটিতে কর্মরত কয়েকজন মিলে সেখানে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে ছোট্ট জায়গাটি সবজিবাগানে রূপ নেয়।
তিনি বলেন, ‘সড়ক বিভাজকের ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থেকেই আমরা এখানে সবজি ও বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো শুরু করি। এখন পুরো বিভাজকজুড়েই সবুজের সমারোহ।’
বাগানে উৎপাদিত সবজি নিজেদের খাবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সহকর্মীদের মধ্যেও ভাগ করে দেন প্রশান্ত। এতে বাজার থেকে সবজি কেনার খরচও কমেছে বলে জানান তিনি।
সবজির পাশাপাশি সড়ক বিভাজকের একটি অংশে ঔষধি গাছও লাগিয়েছেন প্রশান্ত। সেখানে রয়েছে তুলসী, অ্যালোভেরা, পাথরকুচি, কেশরাজ, হলুদ ও নিমসহ বিভিন্ন গাছ। সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অনেক পথচারী এসব গাছ দেখতে থামেন। কেউ কেউ প্রয়োজন অনুযায়ী গাছও চান। তাদের সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করার চেষ্টা করেন তিনি।
সারাদিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত শরীরে বিশ্রাম নেওয়ার কথা থাকলেও কামাল হোসেনের অবসর কাটে গাছের পরিচর্যায়। শখের বশে সড়ক বিভাজকের অল্প জায়গায় সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন তিনি।
কামাল বলেন, ‘শখ করেই এখানে সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছি। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই এই অল্প জায়গায় কিছু শাক-সবজি লাগিয়েছি। নিজেরাও খাচ্ছি, আবার কেউ চাইলে তাকেও দিচ্ছি।
সড়ক বিভাজকে শাক-সবজি চাষ
আরও খবর










